লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটাগরি: অপরাধ ও জাতীয়
সময়: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | সন্ধ্যা ৬:১৫
রাজধানীর গুলশানে ৫০ লাখ টাকার জাল নোটসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের প্রভাবশালী সদস্য রেজাউল শেখ ও তার দুই সহযোগী। রোববার বিকেলে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের একটি বাসার সামনে থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। এই গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসছে রেজাউলের ‘আলাদিনের চেরাগ’ পাওয়ার মতো রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার রোমহর্ষক সব তথ্য।
গুলশান থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন মিরপুর থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে করে জাল টাকার বড় একটি চালান গুলশানে আসছে। পুলিশ ওত পেতে থেকে আবু হানিফ পালোয়ান ও আব্দুল্লাহ মজুমদার আশিককে প্রাইভেটকারসহ আটক করে। তাদের সাথে আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অপেক্ষমাণ ছিলেন যুবলীগ নেতা রেজাউল শেখ। তল্লাশিতে একটি বাজারের ব্যাগে ১ হাজার টাকার ৫০টি বান্ডেলে মোট ৫০ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
রেজাউল শেখের এই গ্রেফতারের খবর কালীগঞ্জে পৌঁছাতেই স্থানীয়দের মাঝে শুরু হয়েছে ব্যাপক কানাঘুষা। এক সময় যার বাবা সুরুজ মিয়া গ্রামে গ্রামে ঘুরে ধান কিনে কোনোরকমে সংসার চালাতেন, সেই রেজাউল এখন শতকোটি টাকার মালিক! স্থানীয়দের অভিযোগ, জাল টাকার অবৈধ ব্যবসা করেই তিনি গড়েছেন:
নাগরী নিউ মার্কেট: নাগরী বাজারে ১০ তলা আলিশান মার্কেট।
বিলাসবহুল বাড়ি: জিএমপি পুবাইল থানার পাশে ৪ ইউনিটের ৭ তলা ভবন।
বিশাল প্লট: কুদাব বাগিচা এলাকায় ১০ কাঠার ওপর বাড়ি ও ছিকুলিয়া এলাকায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের জমি।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি মেহের আফরোজ চুমকির ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় রেজাউলের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। এখন তার গ্রেফতারের পর সাধারণ মানুষ দাবি তুলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যেন তার এই বিশাল সম্পদের উৎস তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জাল টাকার মতো ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার এই ঘটনাটি আমাদের আইনি ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে একজন সাধারণ ঘরের ছেলে কীভাবে এত দ্রুত বিশাল সম্পদের মালিক হলেন, তা গভীরভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
১. মো. আবু হানিফ পালোয়ান (৫০) ২. রেজাউল শেখ (৪০) (কালীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ সদস্য ও নাগরী ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি)
৩. আব্দুল্লাহ মজুমদার আশিক (২৪)
গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জাল টাকা রাখা ও পরিবহনের অভিযোগে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে টাকা বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও।
আপনার মতামত: রাজনীতি কি অপরাধীদের আড়াল করার নিরাপদ জায়গা হয়ে উঠছে? এই অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে আপনার ভাবনা কী? কমেন্টে জানান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |